Saturday , 27 February 2021
Breaking News
Home / মতামত / আস্থার সংকটে সুপার শপ আর রেস্টুরেন্ট

আস্থার সংকটে সুপার শপ আর রেস্টুরেন্ট


আস্থার সংকটে সুপার শপ আর রেস্টুরেন্ট

অনলাইন ডেস্ক:

আশিস সৈকত
ফখরুদ্দীনের বিরিয়ানী কিংবা নান্দুস রেষ্টুরেন্টের নাম মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের পছন্দের তালিকার আস্থার সংকটে সুপার শপ আর রেস্টুরেন্টপ্রথম সারিতে। কিন্তু গত সপ্তাহে এ দুটো আস্থার জায়গাই নষ্ট হয়ে গেছে। ভেজাল খাবার পরিবেশনের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত দণ্ড দিয়েছে তাদের। এখন আর এসব রেস্টুরেন্টকে নিরাপদ মনে করে মানুষ খেতে পারবে না।

একই রকমভাবে শহুরে দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নাগরিক সমাজে বাজার-সদাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় জায়গার নাম সুপার শপ। একছাদের নিচে কাঁচাবাজার, মাছ, মাংস হইতে শুরু করিয়া সকল ধরনের নিত্যপণ্য, প্রসাধনসামগ্রী ‘মানসম্মত’ হওয়ার কারণে সুপার শপের জনপ্রিয়তাও গত দেড় দশকে অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রদীপের নিচে যে জমাট বাঁধা অন্ধকার, তার আলামত পাওয়া গেল বিভিন্ন সুপার শপে ভেজালবিরোধী অভিযানে। ২০১৬ সালে সুপার শপগুলির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো বিস্তর অভিযোগের প্রমাণ মেলে। সেই সময় বিভিন্ন সুপার শপকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়। সম্প্রতি রমজান মাস শুরুর পর পুলিশ, র‌্যাব ও বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত ধারাবাহিকভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। আর এই অভিযানেই কয়েকটি স্বনামধন্য অভিজাত সুপার শপগুলিতে পাওয়া গেছে পচা,বাসি মাছ-মাংস, শুকনো সবজি ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাও করেছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে বাদ যায়নি অ্যাগোরা, মীনা বাজার, স্বপ্নের মত সুপারশপও।



‘মানসম্মত’ পণ্যের স্লোগান দিয়াই ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে সুপার শপগুলি। কিন্তু এ ধরনের ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্যে ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হইতেছে সুপার শপের পণ্যের ‘মান’ নিয়ে। সুপারশপগুলি যে ধরনের সকল পচনশীল দ্রব্য তথা মাছ-মাংস বিক্রয় করিতেছে, তাহা কত দিনের পুরাতন কিংবা ওই পচনশীল পণ্যের মেয়াদ কত দিন হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই তার উল্লেখ থাকে না। এমন কী মাছ-মাংস সংরক্ষণের জন্য যে প্রক্রিয়ায় রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়, তা কতটা মান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন এ নিয়ে ও প্রশ্ন রয়েছে। বিদেশ হতে যেসব ফল, সবজি আমদানি করা হয়, তার মেয়াদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উল্লেখ থাকছে না। বিভিন্ন পণ্যের মেয়াদ দেখানোর ক্ষেত্রেও অসততার আশ্রয় নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে ভেজালবিরোধী অভিযানে। শুধু রোজা নয়, বত্সরের অন্যান্য সময়েও ভেজালবিরোধী অভিযানেও পাওয়া গেছে ভেজাল পণ্যের আলামত। ভেজাল পণ্য ছাড়াও এই সব সুপার শপের বিভিন্ন পণ্যে স্বাভাবিক বাজারের তুলনায় বাড়তি দাম রাখা হয়। তাহা ছাড়া ক্রয়কৃত পণ্যে ওজনে কারচুপি, মূল্যহ্রাসের নামে প্রতারণা, ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ হরহামেশাই আসিতেছে এই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দেশে ২০০১ সালে প্রথম সুপার শপ চালু হইবার পর গত দেড় দশকে কলেবর বেড়েছে বহুগুণ। বর্তমানে দেশে ৩০টির মতো কোমপানি রয়েছে যারা সারা দেশে দুই শতাধিক সুপার শপ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ সুপার মার্কেটস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসওএ) হিসাব অনুযায়ী, সুপার মার্কেট খাতে বর্তমানে বার্ষিক টার্নওভার দেড় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত নিঃসন্দেহে। ঢাকাবাসীর নিরাপদ খাদ্য ও মানসম্মত নিত্যপণ্যের আশ্রয় হয়ে উঠার পরিবর্তে সুপার শপগুলি উল্টা তৈরি করছে আস্থার সংকট। স্পষ্টতই ভোক্তাদের নিকট নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হইলে সুপার শপগুলো কখনই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ব্যবসা করতে পারবে না। সততা ও আস্থার চেয়ে বড় সংকট আর নাই। এই সংকট হইতে নিজেদের উদ্ধার করতে হবে সুপার শপসমূহকে। অন্যথায় স্বপ্নই থেকে যাবে এ ব্যবসার প্রসার। একই ভাবে এদেশের রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ো ধ্বস নামবে। লেখক: সাংবাদিক