টিকা নিতে সাহস করেননি কেউ, এগিয়ে এলেন গ্রামপুলিশ!

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের সর্বাগ্রে টিকা নিতে হবে। কিন্তু তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো ডাক্তার বা নার্স ভ্যাকসিন নিতে রাজি হননি। অথচ করোনা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আশায় অনলাইনে টিকা গ্রহণের আবেদন করেন ১৮ ব্যক্তি। এর মধ্যে বেশির ভাগই ডাক্তার ও নার্স।

আজ রবিবার টিকা প্রদান উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ভয়ে কেউ টিকা গ্রহণ করতে রাজি হলেন না। অবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রামপুলিশ সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলেন। তিনি টিকার জন্য আবেদন না করলেও হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের অনুরোধে রাজি হন। এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায়।

জানা গেছে, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ আমিনুর শেখের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তালায় এই কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়। ভ্যাকসিনগ্রহীতা আমিনুর শেখ উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ শেখের পুত্র।

প্রতাক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজিব সরদার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিফ-উল-হাসান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার মহমান ও মুর্শিদা পারভিন পাপড়ি।

সভাশেষে উদ্বোধনী দিনে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা তালা উপজেলার ১৮ জন ব্যক্তির মধ্যে কাউকে ভ্যাকসিন নিতে দেখা যায়নি। এই তালিকায় তালা হাসপাতালের ডাক্তারগণ থাকলেও তাঁরা কেউ ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে আগ্রহী হননি। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও আগ্রহী হননি। যদিও ভ্যাকসিন প্রদানের সময়ে সকল ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাঁরা ভ্যাকসিন নেননি। অগত্যা গ্রামপুলিশ আমিনুরকে সামনে পেয়ে তাকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে তালায় কভিড-১৯ প্রতিষেধকের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হয়।

ডাক্তারদের টিকা নিয়ে এমন সব বিষয় জানাজানি হলে তালার সকল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। গ্রামপুলিশ আমিনুর বলেন, হাসপাতালের কেউই টিকা নিতে রাজি না হওয়ায় আমি সাহস করে এগিয়ে গিয়ে টিকা নিয়েছি। ডা. রাজিব সরদার বলেন, তালায় ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য ১৮ জন ব্যক্তি আবেদন করেন। এর মধ্যে উদ্বোধনী দিনে একজনকে প্রয়োগ করে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি জানান, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সকলে সঠিকভাবে আবেদন না করায় আবেদন কম রয়েছে। হাসপাতালের সকল ডাক্তাররা পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্সরা টিকা না নেওয়া দুঃখজনক। সবার আগে তাদের টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর করতে হবে। তা না হলে সরকারের এ মহতী উদ্দ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।