গান গেয়ে সংসার চালান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাবিব!

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নিভৃত পল্লীর অতিদরিদ্র পরিবারে দৃষ্টিহীন হয়ে তার জন্ম। পৃথিবীর রূপ-লাবণ্যে-সৌন্দর্য্যের স্বাদ থেকে তিনি বঞ্চিত। পুরো পৃথিবীটাই তার কাছে অন্ধকার। জন্মদাতা প্রিয় বাবা-মাকেও দেখেননি। আয়-রোজগার না থাকায় বিপর্যস্ত তার পরিবার। এজন্য অভাবের সংসারের হাল ধরেছেন তিনি।

বলছিলাম বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের বেতেঙ্গা গ্রামের দিন মজুর বেলাল মোল্লার ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাবিব মোল্লার (২৫) কথা। সবাই ওকে ‘অন্ধ হাবিব’ বলেই ডাকেন। গান গেয়ে পুরো সংসারের খরচ চালান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হাবিবের গ্রামের বাড়িতে তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। জানা যায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাবিবের জীবনের কষ্ট ও তাদের পরিবারের সুখ-দুঃখের কথা।

হাবিবের মা কল্পনা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, হাবিবের জন্মের কয়েক দিন পর তার চোখে ছানির মতো দেখা যায়। সেই সময় চিকিৎসককে দেখালেও কোন কাজ হয়নি। সময় বাড়ার সাথে সাথে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন তিনি। সাধ্য মতো চিকিৎসা করালেও চোখের আলো আর ফিরে আসেনি। অনেক কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে মানুষ করতে থাকি হাবিবকে।

হাবিবের দিনমজুর বাবা বেল্লাল মোল্লা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি বড় অসহায়। একে তো বড় ছেলে অন্ধ। তারপর আবার সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছি। এই কুড়ে ঘরটা ছাড়া আমার আর কোন সম্পদ নেই। অন্যের পানের বরজে কাজ করি। কিন্তু পাঁচ সদস্যের পরিবারে একা আয় করে সংসার চালানো সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন,  হাবিবের প্রতিবন্ধী ভাতা এবং বিভিন্ন মাজার শরীফ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে হাবিব যে অর্থ আয় করে সেই অর্থ দিয়েই চলে আমাদের সংসার।

বিভিন্ন মাধ্যমে শুনে শুনে প্রায় ২০০-৩০০ বাউল, জারি-সারি ও মুর্শিদীগান মুখস্ত করেছেন হাবিব

হাবিব বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি কোন পড়া-লেখা জানিনা, চোখেও দেখিনা। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনে শুনে প্রায় ২০০-৩০০ বাউল, জারি-সারি ও মুর্শিদীগান মুখস্ত করেছি। হারমোনিয়ামও বাজাতে পারি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করি। গান গেয়ে যে টাকা পাই তা বাবার হাতে তুলে দেই। সেই টাকা দিয়েই বাবা আমাদের সংসার চালায়।

রিশা শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক গোলাম মোর্তবা রিজু বার্তা২৪.কমকে বলেন, হাবিব অন্ধ হলেও ও অনেক ভালো গান করে। হারমোনিয়ামও বাজায় অসাধারণ। ও আমাদের সাথেই থাকে। আমরা কোন অনুষ্ঠান হাতে পেলে ওকে নিয়ে যাই। ওর গান শুনে সবাই ওকে টাকা উপহার দেন। একজন অন্ধ মানুষ এতো ভালো গান করে, না শুনলে বিশ্বাস করা সম্ভব না।

হাবিবরা দুই ভাই এক বোন। ছোট ভাই হাসিব আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর একমাত্র বোন আঁখি। আর মাসেক কয়েক আগে হাবিব বালিয়াকান্দি সরকারি কলেজের পাশে ইলিশকোল গ্রামে বিয়ে করেছেন। হাবিবের স্ত্রীও বাকপ্রতিবন্ধী।