Breaking News
Home / বাংলা নিউজ / ‘একুশের চেতনায় অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সংঘবদ্ধ হতে হবে’ |

‘একুশের চেতনায় অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সংঘবদ্ধ হতে হবে’ |



অনলাইন ডেস্ক:

২১শে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ সুকোমল বড়ুয়া বলেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও আমরা দেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাকে সঠিক রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখন সময় এসেছে রাষ্ট্র ভাষার জন্য যে ত্যাগ তাকে স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সকল কার্যক্রমে বাংলাকে প্রধান ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। একুশে ফেব্রুয়ারিতে রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে যে অধিকার আমরা আদায় করেছিলাম তা আজ স্বৈরাতান্ত্রিক মনোবৃত্তির কাছে নিশ্চিহ্ন হবার পথে। একুশের চেতনায় আমাদেরকে আবার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সংঘবদ্ধ হতে হবে।

এবি পার্টি আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন সুকোমল বড়ুয়া।

এবি পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার বিকেল ৩টায় ঢাকার বিজয়নগরস্থ এবি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

যুগ্ম-সদস্য সচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়াঁ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন ২১শে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ সুকোমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মিয়া মোহাম্মদ সিরাজ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কমান্ডার (অব.) শাব্বির আহমদ, এবি পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাক্তার মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, এডভোকেট তাজুল ইসলাম।

সভায় ২১ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু, যুগ্ম-সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিএম নাজমুল হক, সহকারী সদস্য সচিব যথাক্রমে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, নাজমূল হুদা অপু, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবিএম খালিদ হাসান, এএফ ওবায়দুল্লাহ মামুন, শাহ্ আব্দুর রহমান, নারী নেত্রী বেবী পাঠান, আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকীব, সাইফুল ইসলাম মীর্যা, সুলতানা রাজিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিয়া মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি হোক শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায় ও কল্যান ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার অনুপ্রেরণা। অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের ঐশ্বর্য কিন্তু এখনো আদালতে রায় লিখা হয় ইংরেজিতে। ডাক্তারগণ প্রেসক্রিপশন দেন ইংরেজিতে যা সাধারণ বেশিরভাগ মানুষ পড়তে কষ্ট হয়। তিনি এর অবসান দাবি করেন। 

প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, আমাদের ভাষা আমাদের প্রাণ। নানা আঞ্চলিক ভাষা এবং প্রকৃতি আমাদের হৃদয়ের অংশ। একুশে ফেব্রুয়ারি সেইসব আবেগকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, মেডিক্যাল পাঠ্যক্রমের বই বাংলায় লিখা হলে ছাত্ররা উপকৃত হবে অথচ এটা কেউ করতে তাইলে তাকে উৎসাহিত করা হয় না। 

সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু বলেন, একুশ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ ছিল কিন্তু এটা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্পদ। একুশ সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। একুশের চেতনা যতদিন থাকবে ততদিন জুলুমের বিরুদ্ধে মজলুমেরা লড়াই চালিয়ে যাবে। 

সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে মাতৃভাষা আন্দোলন বলে চালানো এক ধরনের বিভ্রান্তি। ভাষার জন্য একমাত্র আমরাই জীবন দিয়েছি এটা সত্য নয়। তিনি বলেন আসাম, তামিলনাডুসহ বিভিন্ন দেশে যারা বিভিন্ন সময়ে ভাষার অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে এবি পার্টি তাদেরকে গভীর সম্মানের সাথে স্মরণ করছে। বাংলা ভাষাকে প্রধান ভাষা হিসেবে রেখে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো ৩/৪ টা ভাষা শেখানোর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের যোগ্য ও দক্ষ কর্মজীবী তৈরি করার জোর দাবি জানান তিনি। 

বিএম নাজমুল হক বলেন, যেভাবে রাজপথে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে ভাষার অধিকার আদায় করা করে হয়েছিল আজো বাক স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যে এবি পার্টিকে রাজপথে সাহসী ও লড়াকু ভূমিকা পালনের জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ২১-এর অনুপ্রেরণায় ন্যায় ও কল্যাণকর নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য এবি পার্টি কাজ করছে। তিনি দেশের জন্য আত্মদানকারী সকল শহীদদের সঠিক তালিকা করে পরিবারদের পূণর্বাসনের দাবি জানান। 

সভা শেষে ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আনিসুর রহমান জাফরী।

-অনলাইন ডেস্ক