Home / বাংলা নিউজ / এক কিশোরীর বক্তব্যে তদন্তে আলোর রেখা |

এক কিশোরীর বক্তব্যে তদন্তে আলোর রেখা |


অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শিশু সাফওয়ান আল নিনাদ হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি হয়েছে। এক কিশোরীর বক্তব্য তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের কাছে আলোকরেখা হয়ে উঠেছে। এর ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির মায়ের মামিকে। খাদিজা আক্তার রানী নামের ওই নারীকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মইনুল ইসলাম গতকাল সোমবার কে বলেন, ‘খাদিজা আক্তার রানীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।’ নিনাদের বাবার দাবি, রানী ও তাঁর মেয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত।

খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ার ভুইয়াপাড়ার ২১৫/৫ নম্বর বাড়ির স্বপন বেপারীর ছেলে নিনাদ। নিনাদের মায়ের মামা জহিরুল ইসলাম লুড্ডু। তাঁদের বাড়িও কাছাকাছি। জমাজমি নিয়ে এই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ২০১৮ সালের ১৫ জুন ঈদুল ফিতরের আগের রাতে ওই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় নিনাদ। পরের দিন বাড়ির পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর অজ্ঞাত আসামি দিয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন স্বপন বেপারী। কিন্তু থানা পুলিশ বেশি দূর এগোতে পারেনি। পরে মামলাটি যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে লুড্ডুকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে লুড্ডু জামিনে রয়েছেন। এরপর বাদীপক্ষের না রাজির কারণে মামলা যায় পিবিআইয়ে। তাদের চার্জশিটেও বাদীপক্ষ না রাজি দিলে মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।

সিআইডি তদন্তে নেমে নিনাদ হত্যাকাণ্ডে লুড্ডুর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রানীর সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এর ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

যেভাবে মামলার নতুন মোড় : নিনাদের পরিবারের কেউ-ই বুঝতে পারছিলেন না কে বা কারা এই  হত্যাকাণ্ডে জড়িত। মামলাও হয় অজ্ঞাত আসামিদের নামে। অবশেষে সিআইডি তদন্তে নামার পর ওই বাড়ির সাবেক এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে কিছু তথ্য পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিনাদকে হত্যার আগে গ্রেপ্তারকৃত রানীর সঙ্গে থাকতে দেখেছে তাদের বাড়িরই এক কিশোরী ভাড়াটিয়া, যে কিনা রানীর মেয়ে জান্নাতের খেলারও সাথী। সেই কিশোরী এরই মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।



সাক্ষ্যে ওই কিশোরী জানায়, ঈদের আগের রাতে বাড়ির মালিক লুড্ডুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে সে নিনাদকে দেখতে পায়। নিনাদ এখানে কী করছে তা লুড্ডুর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রানীর কাছে সে জানতে চায়। রানী জানান, সে ঈদের রাতে বাজি খেলার জন্য এসেছে। এরপর রানী ওই কিশোরী ও তার মেয়ে জান্নাতকে ১০০ টাকা দেন বাজি কিনে আনার জন্য। টাকা পেয়ে তারা বাজি কিনতে চলে যায়। বাজি কিনে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তারা বাসায় এসে নিনাদকে দেখতে পায়নি। জানতে চাইলে রানী ওই কিশোরীকে জানান যে নিনাদ বাড়ি চলে গেছে। এরপর তারা কিছুক্ষণ খেলা করে। ওই সময় লুড্ডু কাঁধে করে কোল বালিশের মতো করে কাপড়চোপড় নিয়ে যাচ্ছিলেন। জান্নাত তার বাবার কাছে জানতে চায় ওগুলো কী? তখন পাশ থেকে রানী জবাব দেন, এগুলো পুরনো কাপড়। পরের দিন ওই কিশোরী নিনাদের লাশ পাওয়া যাওয়ার খবর জানতে পারে।

মামলার বাদী স্বপন বেপারী বলেন, ‘বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নিনাদ হত্যার জোরালো সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লুড্ডুর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রানী ও তাঁর বড় মেয়ে রুমানা ইসলাম যুক্ত বলে আমরা মনে করি। রানী গ্রেপ্তার হওয়ায় আমি খুশি। এখন দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

স্বপন বেপারী আরো বলেন, ‘রানীর বাড়ির ভাড়াটে ওই কিশোরী ঈদের আগের রাতে ওই বাসায় নিনাদকে দেখতে পাওয়ার খবর এক মহিলাকে জানিয়েছিল। ওই কিশোরীর দেওয়া তথ্য ও পারিপার্শ্বিক ঘটনার মধ্যে অনেক কিছুতেই মিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া আমার সন্তানকে হত্যার আগে ওরা যে দোকান থেকে মোটা পলিথিন কিনে নিয়েছে সে তথ্যও পাওয়া গেছে।’

-অনলাইন ডেস্ক