Home / বাংলা নিউজ / অনুষ্ঠানের মধ্যেই সংগীত শিল্পীকে মারলেন কালচারাল কর্মকর্তা |

অনুষ্ঠানের মধ্যেই সংগীত শিল্পীকে মারলেন কালচারাল কর্মকর্তা |


অনলাইন ডেস্ক:

ঝালকাঠিতে শিল্পকলার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের মধ্যেই এক সংগীত শিল্পীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে কালচারাল কর্মকর্তা আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার শিল্পী মনির মল্লিক (৩৫)। মনির ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিরাপত্তা প্রহরী (আইটসোসিং) পদে চাকরিও করেন। তিনি বাংলার সারেগামাপা’র সেরা দশের একজন। মনির মল্লিক সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের হামেদ মল্লিকের ছেলে। 

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। অতিথি হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন। কালচারাল কর্মকর্তা মো. আল মামুন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে ঝালকাঠির নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শিল্পকলার নিরাপত্তা প্রহরী ও সংগীত শিল্পী মনির মল্লিককে ডেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের নাস্তা দিতে বলেন।

মনির সবাইকে নাস্তা দেওয়া শুরু করলে কালচারাল কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়। মনিরকে এক পাশে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে শিল্পকলা একাডেমির চাবি রেখে তাড়িয়ে দেন কালচারাল কর্মকর্তা। কোনো দিন শিল্পকলার কাছে গেলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মনির মঞ্চে থাকা জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীকে জানান।



শিল্পী মনির মল্লিক অভিযোগ করেন, আমাকে এনডিসি স্যার নাস্তা দিতে বলেছেন, আমি শিল্পীদের নাস্তা দিলে মামুন স্যার (কালচারাল কর্মকর্তা) আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আমাকে পাশে ডেকে মা-বাবা তুলে নোংরা ভাষায় গালাগাল করে। আমি কোনো জবাব দিইনি। তিনি আমার মুখমন্ডলে কয়েকটি থাপ্পর মারেন। এখনো সেই দাগ আছে। সে আমার কাছ থেকে শিল্পকলার চারটি চাবি রেখে তাড়িয়ে দেয়। শিল্পকলা একাডেমির কাছে গেলেও আমার হাত-পা লোকজন দিয়ে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। আমি একজন শিল্পী হয়েও দারিদ্র্যতার কারণে ১৬ হাজার টাকা বেতনে জেলা শিল্পকলার নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে চাকরি করছি। আমার চাকরিটা চলে গেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমার অপমানের বিচার দাবি করছি। 

এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, মনির তাঁর ইচ্ছে মতো কাজ করে। সময় মতো অফিসে আসে না। এতে কাজের ক্ষতি হয়। শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে তা ঠিক মতো করেনি। শিল্পীদের নাস্তা দিতে বলা হলেও সে অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে নাস্তা নিয়ে আসে। আমি তাকে নিষেধ করেছি। পরে এ বিষয়ে তাকে শাসানো হলে সে চাবি রেখে চলে যায়, তাকে মারধরের প্রশ্নই আসে না। 

ঝালকাঠির নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহমেদ হাছান বলেন, এ বিষয়ে মনির জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে। কোনোভাবেই একজন স্টাফের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। এটা ওনি (কালচারাল কর্মকর্তা) করে থাকলে, ঠিক করেননি।

-অনলাইন ডেস্ক