Home / বাংলা নিউজ / বিটিআরসি বলছে সক্ষমতা নেই |

বিটিআরসি বলছে সক্ষমতা নেই |


অনলাইন ডেস্ক:

হাইকোর্টের নির্দেশের পর পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার মেন’ শিরোনামে আলজাজিরায় প্রচারিত ডকুমেন্টারিটি অনলাইন মাধ্যম থেকে সরাতে সক্ষম হয়নি। বিটিআরসি বলছে, এ বিষয়ে তাদের সক্ষমতা নেই। ফেসবুককে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। হাইকোর্টের আদেশের সার্টিফায়েড কপি পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আদালত নির্দেশ পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিআরসি তার সীমাবদ্ধতার তথ্যও জানাতে পারে।

তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির এ বিষয়ে বলেন, ওই ডকুমেন্টারিটি অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ও এত কপি হয়েছে, যা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জটিল হতে পারে। এরপর বিষয়টি ফেসবুক ও গুগলের এডিটরিয়াল পলিসির ওপরও নির্ভর করছে। ওরা ওদের পলিসির বাইরে কাজ করে না।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র গতকাল সোমবার কে বলেন, ‘আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদনটি ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুকসহ সব অনলাইন মাধ্যম থেকে সরানোর সক্ষমতা আমাদের নেই। এ সক্ষমতা অন্যান্য দেশেরও নেই। হাইকোর্টের নির্দেশের বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে আইনজীবী সনদ ফেসবুকের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের সার্টিফায়েড কপিও দ্রুত পেয়ে যাব বলে আমরা আশা করছি। সেটি পেলে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কনটেন্টগুলো না সরাতে পারলেও ফেসবুক, ইউটিউব দেশে বন্ধ করে দিতে পারি। কিন্তু কারো বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হোক, সরকার তা চায় না।’

বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব বলেন, বিটিআরসি আলজাজিরার প্রতিবেদনটি অনলাইন মাধ্যম থেকে সরানোর পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ বা আদালতের রায়কে ওই কমিটিগুলো গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কমিটিগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

বিটিআরসির এ সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে কি না—প্রশ্নে খন্দকার রেজা-ই-রাকিব বলেন, আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিটিআরসি তাদের পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো জানাতে পারে।



জানা যায়, এ ধরনের সমস্যা সমাধানে কয়েক বছর আগে দেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ‘সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলের মতো ওয়েবসাইট থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থী নির্দিষ্ট কোনো কনটেন্ট অপসারণে আর বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিতে হবে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালেই এ সক্ষমতা অর্জন এবং তা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ফেসবুক বা ইউটিউবের কোনো আপত্তিকর মন্তব্য, পোস্ট বা ভিডিও দেশের বাইরে দেখা গেলেও বাংলাদেশে আর কেউ দেখতে পাবে না। প্রকল্পটি থেকে প্রচুরসংখ্যক পর্নো ও গ্যাম্বলিং সাইট বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু ওই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা গতকাল কে জানান, এখনো এইচটিটিপিএস বা হাইপারটেক্স ট্রান্সফার প্রটোকল সিকিউরের ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার বিষয়টি জটিল। তবে এ বিষয়ে সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে গত শনিবার রাতে ফেসবুকের তরফ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয় যে বিটিআরসির কাছ থেকে আলজাজিরার ডকুমেন্টারিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের লিখিত নির্দেশনা তারা পায়নি। ফেসবুকের পক্ষে বাংলাদেশ জনসংযোগকারী প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক পিআর সংবাদমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠায়। গতকালও বেঞ্চমার্ক পিআরের একজন কর্মকর্তা কে জানান, ওই বিবৃতির পর ফেসবুকের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে আর কোনো তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদন অনলাইন থেকে সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, সংবাদটি গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত হলেও তা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আগেই অবিলম্বে তা সরাতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, দেশের সমাজব্যবস্থা এবং দেশের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে বিটিআরসির প্রতি এ আদেশ দিচ্ছেন। এ ছাড়া আদালত বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিটিআরসির আইনজীবীর বক্তব্য থেকে এটা স্পস্ট যে একটি দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা আঘাত করে এরূপ যেকোনো কনটেন্ট আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরাতে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

-অনলাইন ডেস্ক