Breaking News
Home / বাংলা নিউজ / রহস্যঘেরা মৃত্যু, মায়ের হাতে পিঠা খাওয়া হলো না আজাদের|

রহস্যঘেরা মৃত্যু, মায়ের হাতে পিঠা খাওয়া হলো না আজাদের|

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে মায়ের বানানো পিঠা খাওয়া হলো না আজাদের। সাভারের নয়ারহাট থেকে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন আজাদ বিশ্বাস (২৭)। আজাদ পিঠা খেতে চেয়েছিল মার কাছে। সোমবার বিকেলে তার মা পিঠা তৈরি করে। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় আজাদ মাকে বলে গিয়েছিল পাওনা টাকা আদায় করে বাড়ি এসে তোমার সঙ্গে পিঠা খাব। কিন্তু তা আর হলো না আজাদের।

মঙ্গলবার সকালে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে। লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। লাশের কাছে আজাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল সেটের মধ্যে বাটন ফোন সেটটি পাওয়া গেলেও অ্যান্ড্রয়েড ফোনসেটটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যা না গাড়িচাপায় নিহত হয়েছে তা বলা যাবে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে মামলা রুজু করেছে গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। তবে পরিবারের অভিযোগ আজাদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আজাদ বিশ্বাস ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের কিশোরীনওগা গ্রামের ব্যবসায়ী বাবুল বিশ্বাসের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, আজাদ বাথুলীর কেবিসি কারখানায় চাকরি করার পাশাপাশি তুষ, ভুষি, কুড়া ও ভোজ্য তেলের ব্যবসা করত। প্রায় তিন মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন আজাদ। ব্যবসা করার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আজাদকে দেন তার বাবা। কয়েকজনের কাছে ব্যবসার টাকা পাওনা ছিল আজাদের। ওই পাওনা টাকা সাভারের নয়ারহাট থেকে দেওয়ার কথা ছিল সোমবার বিকেলে। ওই টাকা নিতে সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন আজাদ। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।

মঙ্গলবার সকালে বাথুলী বাসষ্ট্যান্ডের পূর্বপাশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কিনারে তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পরে হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথা, মুখ, নাক ও কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আজাদ তার বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায়, নয়ারহাট থেকে আমারে ধামরাই নিয়ে যাইতেছে। সেখানে নিয়ে টাকা দেবে। বেশি কথা কওন যায় না বিপদে আছি। এরপর থেকে আজাদ আর মোবাইল ফোন রিসিভ করেনি। তাদের অভিযোগ, যাদের কাছে টাকা পাবে তারাই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে কার কাছে টাকা পাবে তা তারা বলতে পারেনি।

ধামরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, হত্যা না সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে তা তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে মর্মে গোলড়া হাইওয়ে থানা মামলা রুজু করেছে।

এদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ধামরাইয়ের দিক থেকে আজাদের বাড়ি যেতে নামতে হবে বাথুলী বাসস্ট্যান্ডে। বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আজাদের বাড়ি। বাসস্ট্যান্ড থেকে সোজা দক্ষিণ দিকে আজাদের বাড়ি। বাসস্ট্যান্ডে নেমে আজাদের যাওয়ার কথা দক্ষিণ দিকে। কিন্তু আজাদের লাশ পাওয়া গেছে বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে তিন শ গজ দূরে। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

-অনলাইন ডেস্ক

2021-02-23