Breaking News
Home / বাংলা নিউজ / টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩ |

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গাসহ নিহত ৩ |


অনলাইন ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত জকির বাহিনীর সাথে র‌্যাবের গোলাগুলিতে ডাকাত সর্দ্দার জকিরসহ তিনজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। এ সময় র‌্যাবের এক সদস্যও আহত হয়েছেন। র‌্যাব সদস্যরা জকির বাহিনীর আস্তানা থেকে উদ্ধার করেছে ৯টি বন্দুক ও ২৫ রাউন্ড গুলি।

আজ মঙ্গলবার বিকালে টেকনাফের ২৬নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিম পার্শ্বের পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। 

অপরদিকে একই এলাকায় র‌্যাবের সাথে যখন রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল তখন আরেক রোহিঙ্গা ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে অপহরণে ব্যস্ত ছিল স্থানীয় একজন সিএনজি চালককে অপহরণের কাজে। দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা জকির বাহিনীর সাথে র‌্যাবের গোলাগুলি শেষ হতে না হতেই অপর রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সদস্যরা সাইফুল (৩৪) নামের স্থানীয় একজন সিএনজি চালককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ডাকাত দল অপহৃত সাইফুলের মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করে একের পর এক ফোন দিচ্ছে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে।

র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমদ জানিয়েছেন, নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দ্দার জকির বাহিনীর প্রধান জকির আহমদ একজন ভয়ংকর ডাকাত। টেকনাফের পাহাড়ে যতগুলো রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনী রয়েছে তন্মধ্যে হাকিম বাহিনীর পরেই রয়েছে জকির বাহিনীর স্থান। জকিরের বিরুদ্ধে থানায় রেকর্ড করা মামলা রয়েছে ২০টি। এসবের মধ্যে ১৫/১৬টি হচ্ছে হত্যা মামলা। অন্যান্য মামলাগুলো হচ্ছে অপহরণ, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা।



র‌্যাব সূত্রে আরো জানা গেছে, টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিমে পাহাড়ে জকির বাহিনীর আস্তানায় র‌্যাবের গোলাগুলির পর উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি পিস্তল, ২টি বন্দুক ও ৫টি ওয়ান শ্যুটারসহ ২৫ রাউন্ড গুলি। র‌্যাবের সাথে গোলাগুলিতে নিহতরা হচ্ছেন ডাকাত সর্দ্দার জকির আহমদ, তার আপন ভাই মোহাম্মদ হামিদ ও জকিরের চাচাত ভাই জহির আহমদ।

অপরদিকে মঙ্গলবার বিকালে প্রায় একই সময়ে শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের এফ ব্লক এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৩৪) নামের একজন সিএনজি ট্যাক্সিচালককে। অপহৃত সিএনজি চালকের ভাই তোফায়েল আহমদ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রোহিঙ্গা ডাকাত ছালামতুল্লাহর বাহিনীর ১০/১২ জন সশস্ত্র সদস্য অস্ত্রের মুখে তার ভাইকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গেছে।

অপহৃত সিএনজি চালকের ভাই তোফায়েল আহমদ কে জানান, আমার ভাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণকারীরা অস্ত্রের মুখে পাহাড়ে নিয়ে গেছে। আমি অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে ডাকাত বাহিনী প্রধান ছালামতুল্লাহকে মোবাইল করে জানতে চাই অপহরণের কারণ। তিনি জানান, আমাদের কাজই অপহরণ করা। কেননা আমাদের টাকার দরকার।’

তোফায়েল আহমদ আরো জানান, পাহাড় থেকে অপহরণকারী ডাকাত সর্দ্দার ছালামতুল্লাহ তার কাছে ও অপহৃত সিএনজিচালকের স্ত্রী ছবুরা খাতুনের মোবাইলে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে তাদের টেকনাফের শামলাপুর নামক পাহাড়ী এলাকায় যেতে বলেছে। স্থানীয় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি পুলিশকে অবহিত করেছেন।

-অনলাইন ডেস্ক