Home / বাংলা নিউজ / ‘দুর্বোধ্য’ জীবনের পর নতুন অর্জনের লক্ষ্য |

‘দুর্বোধ্য’ জীবনের পর নতুন অর্জনের লক্ষ্য |



অনলাইন ডেস্ক:

দেশের ভেতরে আর যা-ই হোক, হোটেলে একদম রুমবন্দি হয়ে থাকতে হয়নি। সদলবলে একসঙ্গে বসে খাওয়া গেছে। এমনকি হৈচৈ করে করা গেছে পার্টিও। তবু যদি হোটেল আর মাঠেই সীমাবদ্ধ জীবনের বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয় কঠিন বলে মনে হয়ে থাকে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের, তাহলে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তা দুর্বোধ্যই হওয়ার কথা। করোনাকালে নিজেদের প্রথম বিদেশ সফরে ভিন্ন সেই অভিজ্ঞতার চ্যালেঞ্জ নিতেই গতকাল বিকেলে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে বাংলাদেশ দল।

প্রথম গন্তব্য ক্রাইস্টচার্চ। সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের প্রথম সাত দিনই ক্রিকেটারদের হোটেলে যাঁর যাঁর রুম থেকে বের হওয়া বারণ। এমনকি একে অন্যের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও নেই। বেলায় বেলায় প্রত্যেকের ঘরের দরজায় খাবার রেখে দেওয়া হবে। সেখান থেকে নিয়ে খেতে তো হবেই, ঘর গোছানো থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়া ও টয়লেট পরিষ্কার—সবই করতে হবে নিজেকে। এই পর্ব পার করে পরের সাত দিনে জিম করা ও নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অনুশীলনের সুযোগ মিলবে। ১৪ দিন এভাবে পার করার পর অবশ্য মিলবে মুক্তির স্বাদও। কারণ ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের পর কভিড নেগেটিভ হলে নিউজিল্যান্ডে একেবারে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার স্বাধীনতাও থাকছে।

এবার একদমই প্রস্তুতি ছাড়া নিউজিল্যান্ডের ফ্লাইটে চড়ে বসা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আসল প্রস্তুতিও শুরু হবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের পরই। তখন ক্রাইস্টচার্চ থেকে কুইন্সটাউনে চলে যাবে দল, যেখানে হবে পাঁচ দিনের অনুশীলন শিবিরও। স্পিন বোলিং পরামর্শক ডেনিয়েল ভেট্টোরিও দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সেখানেই। সম্প্রতি দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার ধাক্কা সামলে তেমন কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই নিউজিল্যান্ডের মতো বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ কতটা নিতে পারবে বাংলাদেশ, সে প্রশ্নও থাকছেই। কারণ নিউজিল্যান্ড সেই জায়গা, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রাপ্তির খাতা শূন্যই। সব ফরম্যাট মিলিয়ে সেখানে ২৬টি ম্যাচ খেলেও জয়হীন দলের জন্য এবার স্বল্প প্রস্তুতিতে কিছু অর্জন করা তাই একরকম ‘মিশন ইম্পসিবল’ বলেই মনে হচ্ছে।



একেবারে রুমবন্দি হয়ে থাকার ‘দুর্বোধ্য’ জীবন পার করে অসম্ভব বলে মনে হওয়া লক্ষ্যের দিকেই ছোটার তাগিদ অবশ্য শোনা গেল ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের কণ্ঠে। কাল দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে শুনিয়ে গেলেন অসম্ভবকে সম্ভবের দুয়ারে নামিয়ে আনার চেষ্টার কথাও, ‘নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন বরাবরই আমাদের জন্য কঠিন। তবে অসম্ভব কিছুই না। নিউজিল্যান্ডে আমরা যা কোনো দিন অর্জন করতে পারিনি, চেষ্টা করব এবার যেন সেটা বদল করতে পারি। আমরা আশাবাদী।’

যদিও ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট ব্যর্থতার পর দেশের খেলা বাদ দিয়ে সাকিব আল হাসানের আইপিএল খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কে দেশের ক্রিকেট ছিল সরগরম। যা তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির সফরে ক্রিকেটারদের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই কাল দাবি করে গেছেন সৌম্য সরকার, ‘অবশ্যই ভালো কিছু হবে। সবাই যেভাবে মানসিকভাবে ফিট হয়েছে বা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে আশা করি ভালো কিছুই হবে।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে হারানোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই ব্যাটসম্যান এও বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আমরা ভালো করেছি। 

নিউজিল্যান্ডেও ওয়ানডে সিরিজ আছে। আশা করি ভালো ফল নিয়ে ফিরতে পারব। সেখানে যে ধারা (কখনোই না জেতার) আছে, সেটা যেন আমরা ভাঙতে পারি, জিতে যেন ফিরতে পারি, সেই আশা থাকবে।’ সেই আশায় তাঁরা আইসিসি বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ ওয়ানডে সিরিজটি শুরু করবে ২০ মার্চ। পরের দুই ম্যাচ ২৩ ও ২৬ মার্চ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচ তিনটি হবে ২৮ ও ৩০ মার্চ এবং ১ এপ্রিল।

-অনলাইন ডেস্ক