Home / বাংলা নিউজ / অর্থ আত্মসাতের দায়ে সদস্য পদ হারাল যবিপ্রবির সাবেক কর্মচারী নেতা |

অর্থ আত্মসাতের দায়ে সদস্য পদ হারাল যবিপ্রবির সাবেক কর্মচারী নেতা |


অনলাইন ডেস্ক:

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে এম আরিফুজ্জামান সোহাগকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার সদস্য পদ আজীবনের জন্য বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির বর্তমান নেতারা।

সমিতির নেতারা জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযের (যবিপ্রবি) কর্মচারী সমিতির ২০১৯-২০ সালের সদ্য সাবেক সভাপতি এস এম সাজেদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক  কে এম আরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে সাবেক সভাপতি তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে ক্ষমা করে বর্তমান নেতারা। 

এছাড়া সাবেক সভাপতি সম্প্রতি কর্মচারী থেকে পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে তিনি এখন কর্মচারী সমিতির সদস্য নন। তার সম্মান ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি বিবেচনা করে বর্তমান সমিতির সাধারণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের সম্মতিতে জুয়েলকে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহাগের হিসাবের সঙ্গে মিল করে যবিপ্রবি কর্মচারী সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার জন্য জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, যবিপ্রবি কর্মচারী সমিতি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর গত ৩ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. নতুন কমিটি অর্থের হিসাব বুঝে নিতে গিয়ে হিসাবে অসামঞ্জস্যতা পাওয়ার পর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের পর অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলে। সমস্ত বিষয়াদি, তদন্ত প্রতিবেদন, পারিপার্শ্বিকতা এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমিতির নিয়ম বহির্ভুতভাবে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থ সংগ্রহ, অর্থ উত্তোলন এবং আয় ব্যয়ের হিসাব না রেখে ইচ্ছা আর খেয়াল খুশিমতো কাজ করেছেন।



অর্থ আত্মসাতের মতো ঘৃণ্য কাজের নিন্দা জানিয়ে নেতারা জানান, যবিপ্রবি কর্মচারী সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে অত্যন্ত দক্ষতা, ন্যায়, নিষ্ঠা এবং সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছিল কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বিগত কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক নিজের স্বেচ্ছাচারিতা ও খেয়াল-খুশিমতো কাজ করার মাধ্যমে এই সুনাম ভুলণ্ঠিত হয়েছে। এহেন কাজের দ্বারা কর্মচারী সমিতিকে হেয়প্রতিপন্ন এবং খাটো করা হয়েছে।

কর্মচারী সমিতির নেতারা আরো জানান, সাধারণ সম্পাদক পদ অতি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদ হওয়ায় সাবেক সম্পাদক দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণে কাজ করেছেন। আর এটা প্রমাণিত হওয়ায় কর্মচারী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির সাধারণ সভায় সমিতিতে তার সদস্য পদ বাতিলের জন্য অদ্য উপস্থাপন করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য পদ আজীবনের জন্য বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ সমিতির ব্যাংক হিসাব নম্বরে ফেরত আনার জন্য বর্তমান কর্মচারী সমিতির তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়।

-অনলাইন ডেস্ক