Home / কালের কণ্ঠ / বিদ্রোহীর ‘গ্যাঁড়াকল’ ভাঙল আওয়ামী লীগ! |

বিদ্রোহীর ‘গ্যাঁড়াকল’ ভাঙল আওয়ামী লীগ! |

ভোট নিয়ে শঙ্কা ছিল খোদ আওয়ামী লীগেরও। নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্র দখল ও একক ভোট দেওয়ার জন্য জোর করার আশঙ্কার অভিযোগ আনা হয় বিএনপি মনোনীত ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে সেই শঙ্কা উবে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে স্বস্তির জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে এ জয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীর ‘গ্যাঁড়াকল’ ভাঙল। গত চার বছরে হওয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা পরিষদ ও বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়। যে কারণে পৌরসভার মেয়র পদটি প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগের।
   
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর এলাকা ইজমকে ভয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। বরং সেই ভয় দূর করে এলাকা ইজমই বাড়তি পাওনা হয়েছে আওয়ামী লীগের। বিদ্রোহী প্রার্থীর নিজ এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ কিছু ভোট পেলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কেন্দ্র থেকে তেমন ভোটই টানতে পারেননি বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।

রবিবার হওয়া নির্বাচনে ছয় মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মালেক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কারীম। নির্বাচনী বিধি মোতাবেক প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তাঁদের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নায়ার কবির ২৮ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জহিরুল হক আট হাজার ১৩২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মালেক পেয়েছেন ৯৭২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কারীম পেয়েছেন এক হাজার ৪৪৮ ভোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট পেয়েছেন। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮৫৪। আর বাতিলকৃত ভোটের সংখ্য ১৪৪। প্রদত্ত ভোটের হিসেবে আট ভাগের এক ভাগ ভোট সাত হাজারের কিছু বেশি। পৌরসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার ৫০৪ জন। নির্বাচনে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়ে।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাহমুদুল হকের পৈতৃক আদি ভিটা ভাদুঘরের সাতটি কেন্দ্রে তিনি ভোট পান নয় হাজার ৩৭১। কেন্দ্রগুলোতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৩৬৮ ও ধানের শীষের প্রার্থী ৩৫০ ভোট পায়। নায়ার কবিরের স্বামী প্রয়াত উপমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বাড়ি পৈরতলার তিনটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন দুই হাজার ৯০৪ ভোট। 

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছে ১১০ ভোট ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পেয়েছে ৮২ ভোট। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নায়ার কবির যে কেন্দ্রটিতে (হুমায়ুন কবির পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব পাইকপাড়া) ভোট দিয়েছেন সেটাতে তিনি পেয়েছেন ৮৪৬ ভোট। কেন্দ্রটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২০৬ ভোট ও বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ ভোট।     


-Kalerkantho

2021-03-02