Thursday , 21 October 2021

প্রেম প্রতারণা ওদের পুঁজি! পাঁচ নারীসহ গ্রেফতার ১১

রংপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ নারীসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৫ মার্চ) দুপুরে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত বুধবার  নীলফামারীর ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলামকে প্রতারণার মাধ্যমে রংপুর নগরীর নুরপুর করবস্থান এলাকার একটি চারতলা বাড়িতে নিয়ে আসে প্রতারকচক্র। সেখানে তাকে মৃত্যুর ভয় দেখানোসহ মারপিট করে আড়াই লাখ টাকা ও তার বন্ধুর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে তারা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রিয়াজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করলে নগরীর ধাপ এলাকা থেকে চক্রের মূল হোতা বীনা রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

নারীদের ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা বীনা রানীসহ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কচি (৩৪), আহসান হাবীব (২৫), শ্রী বিষ্ণু রায় ওরফে আকাশ (১৯), সেকেন্দার রাজা (২৮), শ্যামল ওরফে নুর ইসলাম (৫৫), সোহাগী ওরফে রাজিয়া (৩২), জোনাকি ওরফে তিশা (২১), জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাতি (২০), শাহনাজ (৩৫) ও লিজা মনিকে (১৯)।

এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৩টি মোবাইল ফোন, অন্যদের কাছ থেকে নেওয়া তিনটি এটিএম কার্ড, নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নগরীর আলমনগর ঘোড়াপীর মাজার এলাকায় একই কায়দায় গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তাকে জিম্মি করা হয়। পরে তার ব্যাংকের এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নেয় চক্রটি। এছাড়া তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশে মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ও নগদ ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৮৫ হাজার টাকা আদায় করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, বিনার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা ৮৫ হাজার খোয়ান। এ ঘটনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বীনা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুটি মানবপাচারের মামলাও রয়েছে।