Thursday , 21 October 2021

‘ভিক্ষা করি না, হাট-বাজারে চা বিক্রি করে পেটের ভাত জোগাতে হয়’

ভিক্ষা করি না,  দু-বেলা দুমুটো ভাত, মেয়ের পড়াশোনা ও নিজের ওষুধের খরচসহ সংসার চালাতে বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করি। স্বামী মরার পর মেয়েকে নিয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি অনৈতিক প্রস্তাব ছাড়া কেউ এগিয়ে আসে না। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের সুখ শান্তিকে বির্সজন দিয়েছি। তাই ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে পেটের ভাত জোগাতে হয়।

কথাগুলো বলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের করগ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী জয়নব বেওয়া (৩৫)। অল্প বয়সেই স্বামী হারিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। আবাদি জমি ও টাকা-পয়সা না থাকায় একমাত্র দু’চালা টিনের জরাজীর্ণ ঘরে মা-মেয়ের বসবাস।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জয়নবের বিয়ের একবছরের মাথায় কোল আলো করে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। মেয়ে অধরা আক্তারের বয়স যখন এক অর্থ্যাৎ জয়নবের বিয়ের দুই বছরের মাথায় তার স্বামী হেলাল উদ্দিন স্ট্রোক করে মারা যান। ১২ বছর বয়সী মেয়েটি ৭ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। শুরু থেকেই সংসারে দুর্ভোগ। অনেক কষ্টে প্রায় ১০ বছর আগে ছোট একটি দু’চালা ঘর বানিয়েছিলেন। জীর্ণশীর্ণ সেই ঘরেই কোনোরকমে থাকছেন মা-মেয়ে। সংসার চালাতে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, কখনও রাস্তায় মাটি কাটেন। করোনাকালে কোনো বাসাবাড়িতে কাজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন কীভাবে বাঁচবেন। উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে অন্যের কিনে দেওয়া ফ্লাক্স হাতে নিয়ে নেমে পড়েন বিভিন্ন বাজারে ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে চা বিক্রি করতে। এই চা বিক্রির সামান্য কিছু আয় দিয়েই খুব কষ্টে করে চলছে জয়নব ও মেয়ের সংসার।

জয়নবের সাথে কথা হলে কে তিনি জানান, দিগপাইত উপশহর ও কাঁচাবাজারে বেশি বিক্রি হয় চা। সারাদিন ঘুরে ঘুরে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা বিক্রি করি। খরচ বাদে একশ’ টাকার মতো হাতে থাকে।’ তিনি আরো জানান, ‘নারী হয়ে রাস্তায় ও বাজারে চা বিক্রি করতে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়। বিভিন্ন অসুবিধা থাকলেও নিজের সংসার একা চালিয়ে নিতে হচ্ছে, হাতপাতি না কারও কাছে , এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’তবে আমার থাকার মতো ঘর নেই। আমার হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট আছে। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়। মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারিনা। সরকারি সহায়তা পেলে ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসারটা চালাতে পারতাম।

এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, জয়নব বেওয়ার জমি থাকলে ঘরের জন্য আবেদন করতে পারেন। আমরা এসব তথ্য সংগ্রহ করছি। তিনি পাওয়ার উপযোগী হলে আমরা ঘরের ব্যবস্থা করব।