তিস্তার পানিতে ডুবছে বাড়ি ভাঙছে সড়ক, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

লালমনিরহাট , ২০ অক্টোবর – তিস্তা ব্যারাজ ফ্লাড বাইপাস ভেঙে যাওয়ার পর এবার লালমনিরহাটের কাকিনা-মহিপুর-রংপুর সড়ক ভেঙে গেছে বন্যার পানিতে। বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর-লালমনিহাট সীমান্তে মিলনবাজার এলাকায় এ সড়ক ভেঙে যায়। এতে রংপুরের সাথে মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এর আগে তিস্তা ব্যারাজ ফ্লাড বাইপাস ভেঙে লালমনিরহাটের সাথে নীলফামারী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তিস্তার পানিতে জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তিস্তা নদী পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার পাঁচ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোর কাচা-পাকা অধিকাংশ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জেলায় এ বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। হাজার হাজার ফসলি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বড়খাতা-হাতীবান্ধা বাইপাস সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। এতে তার ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী হাজার হাজার একর ফসলি জমি।

জেলা পরিষদ সদস্য শকিল হোসেন বলেন, বালু পড়ে তিস্তা ব্যারাজের গেটগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ গেট থেকে বালু সরিয়ে নেয়নি। ফলে তিস্তা ফ্লাড বাইপাসে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে তা ভেঙে যায়। এতে তিস্তার পানিতে ডুবছে লোকালয়।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবার বন্যার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বন্যার আগাম পূর্বাভাস জানানো হলেও এবার তা জানানো হয়নি। ফলে বন্যার পানিতে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসফুদ্দৌলা দুপুরে জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যার ফলে ইতোমধ্যে ব্যারজের ফ্লাড বাইপাসটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এখনো বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি ক্রমেই বাড়ছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসতে পারে তা ধারণা করা যাচ্ছে না।

পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পানি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। আমরা তিস্তা অববাহিকায় লাল সংকেত দিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলে হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, তিনি তিস্তা পাড়ে আছেন। পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চলছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২০ অক্টোবর