‘প্রহসন’ বলে আগরতলায় আবার নির্বাচনের দাবি তুলেছে সিপিএম

আগরতলা, ২৫ নভেম্বর – ভোটগ্রহণ শেষ হতেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলেছে সিপিএম। সিপিএমের দাবি, আগরতলার প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন করে ভোটগ্রহণ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে ত্রিপুরায়। আর তাতে মদত দিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় পৌরভোট (পুরভোট) অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য সিপিএমের অভিযোগ, নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তাদের দলের পোলিং এজেন্টদের বুথে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি, বুথের ভেতরে সাংবাদিকদের ঢুকতেও বাধা দেয়া হয়েছে।

সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তারা পুলিশ এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে ফোন করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, সেই ফোনও ধরা হয়নি।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘রাজ্যের বিজেপি সরকার পুরভোটে (পৌরনির্বাচন) দিনদুপুরে গণতন্ত্রের অমাবস্যা নামিয়ে এনেছে। ভোটের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে ওরা।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে আমি সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি আর্জি জানাই। আজ তার শুনানি ছিল। তবে শুনানি চালু হওয়ার আগেই এখানে ভোট শুরু হয়ে যায়। আদালত সেই শুনানি চলাকালে দু’টি নির্দেশ দেয়। এক, বৈধ অনুমতিপত্র থাকা সব সাংবাদিককে বুথে ঢুকতে দিতে হবে। দুই, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার কিছুই মানা হয়নি।’

রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল এখন বামেরা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এখন বিরোধী দলনেতা। তবে সম্প্রতি পৌরভোটে এ রাজ্যের সাতটি পৌর-এলাকার ১১২টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি।

জিতেন্দ্রর অভিযোগ, ‘গত ৪৪ মাসে ত্রিপুরায় বিজেপি এবং আইপিএফটি সরকার আসার পর থেকেই আর সেখানে গণতন্ত্র নেই। সংবিধান অচল। এমনকি নির্বাচনকেও সরকার প্রহসনে পরিণত করেছে।’

আগরতলাসহ ত্রিপুরার ১৩টি পৌর-এলাকার ২২২টি আসনে ভোট ছিল বৃহস্পতিবার। সেই ভোটের প্রচারে ত্রিপুরায় ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ত্রিপুরা সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। সহিংসতা ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানাতে বলে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশও দেয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের তরফে। সে প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্র বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের নির্দেশিকার পরও ত্রিপুরার প্রশাসন এবং সরকারের টনক নড়েনি। বিজেপি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে চলেছে। হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে ত্রিপুরার মতো একটি ছোট রাজ্যকে ল্যাবরেটরি বানিয়ে স্বপ্নপূরণের চেষ্টা করছে।’

অন্য দিকে, বিজেপির তরফে সিপিএমের সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ভোটের দিন সব বুথে স্বাভাবিকভাবেই ভোটপ্রক্রিয়া চলেছে বলে মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী রতনলাল নাগ।

পাল্টা সিপিএমের বিরুদ্ধেই বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ এনেছেন তিনি। সিপিএমকর্মীদের হাতে মার খেয়ে জখম এক বিজেপি কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জিতেন্দ্র অবশ্য বলেন, ‘যিনি এ অভিযোগ এনেছেন তিনি নিজেই একজন রিগিং মাস্টার। আর তাদের মাস্টার মাইন্ড মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। এরা দাঁড়িয়ে থেকে গুন্ডা নামিয়ে রিগিং করিয়েছে। আর মুখে বলছে বুথ স্বাভাবিক ছিল।’

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৫ নভেম্বর ২০২১

Leave a Reply