Saturday , 10 December 2022

গার্মেন্টে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে হুয়াওয়ে-বিজিএমইএ স্মারক সই |

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধি ও সবচেয়ে বড় ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন বিজিএমইএর সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে আইসিটি অবকাঠামো সেবাদাতা চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। দেশের জ্বালানি খাদে অবদান রাখা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ হিসেবে এই এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়েছে।

এই চুক্তির অধীনে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পোশাক কারখানাগুলোকে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’তে পরিণত করতে হুয়াওয়ে ও বিজিএমইএ একযোগে কাজ করবে। বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত পোশাক কারখানাতগুলোতে ওপেক্স ও ক্যাপেক্স দুইটি মডিউলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে হুয়াওয়ে।

বিজ্ঞাপন

ওপেক্স মডিউলের ক্ষেত্রে কারখানার মালিকরা গ্রিড বিদ্যুতের তুলনায় কম খরচে বিদ্যুৎ পাবেন।

অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডিউলে (প্রথম) কারখানা মালিকরা বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পেমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যেতে পারবেন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে, সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমটির মালিকানা কারখানা মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  

৩০ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও প্যান জুনফেং, দুপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই সময় হুয়াওয়ে ও বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিতে ক্যাপেক্সের মডিউলে (দ্বিতীয়) আরেকটি বিকল্প রাখা হয়েছে; যার মাধ্যমে কারখানা মালিকরা নিজেরাই বিনিয়োগের মাধ্যমে কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন করতে পারবেন এবং সৌর-জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারবেন। দু’টি মডিউলের ক্ষেত্রেই হুয়াওয়ে ও কারখানাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন সহ পুরো প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধান করবে বিজিএমইএ।

হুয়াওয়ে ও বিজিএমইএর এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে ২ গিগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। যা প্রতিবছর প্রায় ২৬০০ গিগাওয়াট আওয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে।

প্রতিষ্ঠান দুটোর আশা, এর ফলে গ্রিড বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে আসবে এবং দেশের চলমান বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনে এই উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কারখানাগুলোতে এই সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিবছর ১.৪০ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে আনা সম্ভব, যা প্রায় ২.১৪ মিলিয়ন ( ২১ লাখ ৪০ হাজার) গাছ লাগানোর সমান সুবিধা দিবে।  

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানি ও গ্যাস সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবস্থা করা এবং সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশের দিকে যাত্রাকে ত্বরান্বিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে প্রতিষ্ঠান দুটো আশা করছে।

হুয়াওয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। বর্তমানে, বাংলাদেশে ডজনেরও বেশি রুফটপ ও সোলার আইপিপি (ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার)প্রকল্প পরিচালনা করছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি।


-Kalerkantho