Saturday , 10 December 2022

বিশ্ববাজারে কদর বাড়ছে দেশীয় সিরামিকের |

অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশে এরই মধ্যে সিরামিক টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারের ৭০টিরও বেশি শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পরিমাণ বার্ষিক আট হাজার কোটি টাকা। গত ১০ বছরে সিরামিক খাতে উৎপাদন বেড়েছে ২০০ শতাংশ। বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 

এ খাতে রপ্তানি আয় বাড়ছে। বাড়ছে বিনিয়োগও। বর্তমানে এ শিল্পে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ খাতটির সঙ্গে জড়িত।  

উন্নত গুণগতমান ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি সিরামিক পণ্যের কদর বাড়ছে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে নতুন নতুন বাজারও সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি এই শিল্পে বড় উৎপাদনকারী দেশ চীন ও ভারতের নজরও এখন বাংলাদেশের দিকে। বিশ্বকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য।

দেশের সম্ভাবনাময় সিরামিক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাসসংকট। চলমান গ্যাসসংকটে খাতটি হুমকির মুখে। সিরামিক পণ্য উৎপাদনে কারখানায় সার্বক্ষণিক গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাসসংকটে বেশির ভাগ সিরামিক শিল্প-কারখাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ফলে সঠিক সময়ে ও চাহিদা মতো পণ্য না পেয়ে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ বাতিল করছে। স্থানীয় বাজারেও সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি অচিরেই রুগ্ণ শিল্প হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে দাবি, কারখানাগুলোর উৎপাদন ঠিক রাখতে প্রয়োজনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তাহলে সম্ভাবনাময় এই খাতে আরো ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়বে। ভবিষ্যতে পোশাকশিল্পের মতো সিরামিকশিল্পও বড় একটি রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে গড়ে উঠবে।

সিরামিক পণ্যের শতভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। মালয়েশিয়া, চীন, ভারত, ব্যাংকক, ইতালি থেকে কাঁচামাল আমদানি করা হয়। তবে সিরামিক কাঁচামালের মধ্যে কিছু কিছু আইটেমে এখনো শুল্ক ৩০-৩২ শতাংশ। উচ্চ শুল্কের কারণে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই শুল্কের হার কমানো হলে আমরা আরো কম দামে বাজারে সিরামিক পণ্য সরবরাহ করতে পারব। আমরা চাই এই বিষয়টি সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

লেখক: সভাপতি, বিসিএমইএ এবং এমডি চায়না বাংলা সিরামিক


-Kalerkantho