সাড়ে ৭ বছর পর শেরপুর জেলা আ. লীগের সম্মেলন কাল |

দীর্ঘ ৭ সাড়ে বছর পর শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেলেও দলের মধ্যেকার দুটি গ্রুপের মধ্যে শীর্ষ দুই পদ পেতে শুরু হয়েছে লবিং গ্রুপিং। সভাপতি-সম্পাদক পদে অন্তত ১০ জনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। জেলা আ. লীগের বর্তমান নেতৃত্বের অংশের নেতারা আতিক-চন্দন জুটিই আবারো সভাপতি-সম্পাদক পদে থাকছেন বলে ধারণা করছেন।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তন আনার লক্ষে দলের আরেকটি অংশ সক্রিয় রয়েছেন।

শেরপুর জেলা আ. লীগের সম্মেলন উপলক্ষে শহরের শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানায় ছেয়ে গেছে পৌরপার্কসহ আশপাশের রাস্তাঘাট-এলাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আ. লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রিয় আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আ. লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রিয় আ. লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ। জেলা আ. লীগের সভাপতি হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল। এতে আ. লীগের স্থানীয় অন্যান্য সংসদ সদস্য, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, জেলা আ. লীগের সম্মেলনকে ঘিরে আতিক-চন্দন এবং রুমান-ছানু গ্রুপের মধ্যে শীতল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আতিক-চন্দন জুটি ভাঙতে রুমান-ছানু গ্রুপের নেতাদের পক্ষ থেকে সভাপতি-সম্পাদক পদে অনেক নেতা প্রার্থীও হচ্ছেন। আবার আতিক-চন্দন গ্রুপ থেকেও ডামি প্রার্থী করার চেষ্টা চলছে। এজন্য অনেক নেতাই নিজেদের জীবন বৃত্তান্ত তৈরি করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ, যোগাযেগ করে নানাভাবে তদবিরও করছেন। তব অনেক নেতাকর্মীই বলছেন, সাড়ে ৭ বছর পর সম্মেলন হলেও নেতৃত্বের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব একটা নেই।

সম্মেলনে কেবল সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে কেউ কেউ আশাবাদী হয়েছেন, অন্যান্য জেলার সম্মেলনের চিত্র দেখে। অনেক জায়গাতেই জেলা আ. লীগের শীর্ষ দুই পদেই পরিবর্তন এসেছে, আবার কোথাও একটি পদে পরিবর্তন হয়েছে। শেরপুরেও এমন কিছু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জেলা আ. লীগের এবারের সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক পদে যাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সভাপতি আতিউর রহমান রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল। এ ছাড়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান, জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা মহিলা আ. লীগের সভাপতি শামসুন্নাহার কামাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইফতেখার হোসেন কাফি জুবেরি, জেলা আ. লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, জেলা আ. লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তাপস কুমার সাহার নাম উল্লেখযোগ্য।

এদের মধ্যে কেউ কেউ প্যানা, ব্যানার টানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দোওয়া-সহযোগিতাও চেয়েছেন। আবার কেউ কেউ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। তবে তাদের সমর্থক-শুভাকাংখীরা নানাভাবে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জেলা আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল বলেন, আ. লীগ বড় দল। দলের ভেতর নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেই। এটাই আওয়ামী রাজনীতির সৌন্দর্য। তিনি জানান, সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ উপজেলা ও শেরপুর পৌর আ. লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে। এখন সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সভাপতি প্রার্থী জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা মহিলা আ. লীগের সভাপতি শামসুন্নাহার কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আতিক-চন্দন জুটি সভাপতি-সম্পাদক পদে রয়েছেন। দলে এখন নতুন নেতৃত্বের দরকার। নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্যই আমি সভাপতি প্রার্থী হচ্ছি। তছাড়া নারী নেতৃত্বকে বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাধাণ্য দেওয়া হচ্ছে। আমি সেই সুযোগটিও গ্রহণ করতে চাই।

২০১৫ সালের ১৯ মে শেরপুর পৌরপার্কে জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগের কমিটির হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক ও অ্যাডভোকেট চন্দন পালের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তারও প্রায় দেড় বছর পর ঘোষিত হয় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি। পরবর্তীতে জেলা আ. লীগের কমিটিতে চারটি নতুন পদ কেন্দ্রীয়ভাবে সৃষ্টি করে কো-অপ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই পদ আর পূরণ করা হয়নি।  


-Kalerkantho