ইসরায়েলের উগ্র ডান সরকার ফিলিস্তিনিদের শঙ্কা বাড়াচ্ছে |

ফিলিস্তিনিকে লাথি মারা ইসরায়েলি তরুণের সঙ্গে কথা বলার পর করমর্দন করে তাকে ছেড়ে দেয় সেনারা-ছবি: বিবিসি

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরনের বাসিন্দা ইয়াসির আবু মারখিয়ার বাড়িতে পাথর ছুড়ছিল জোর করে বসতি স্থাপনকারী দুই ইসরায়েলি তরুণ । প্রতিবাদ জানাতে গেলে এক ইসরায়েলি সেনা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। এর মধ্যে আবু মারখিয়াকে লাথি মারে বসতি স্থাপনকারী এক ইসরায়েলি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদকের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

বিজ্ঞাপন

 

বাদি দাওয়াইক নামের এক ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মী বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কিছুই করে না। এ রকম আক্রমণ যদি কোনো ফিলিস্তিনি করতেন, তাহলে তাঁকে কারাগারে যেতে হতো অথবা গুলি খেতে হতো। ’ তিনি দাবি করেন, বসতি স্থাপনকারীদের কোনো সহিংসতার জবাবদিহি নেই।  
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরায়েলে সর্বশেষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে চরম ডানপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো তার বদৌলতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের আচরণ ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ইহুদিবাদ-নির্ভর উগ্র জাতীয়তাবাদ তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতাকে বাড়িয়ে তুলছে।  
প্রান্তসীমা থেকে মূলধারা : গত নভেম্বর মাসের নির্বাচনে ইহুদিবাদী উগ্র ডানপন্থী একটি জোট ইসরায়েলের আইনসভার ১২০টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করে। আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে তারাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনের অধিকারী।

নতুন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রী হয়েছেন জ্যুইশ পাওয়ার দলের চরম ডানপন্থী নেতা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমি অধিগ্রহণের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইতামার বেন-গভির। তিনি এখন ইসরায়েলি পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বে থাকবেন। ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত পশ্চিম তীরেও দায়িত্ব পালন করবে তাঁর নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

বেন-গভির একবার আরববিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।  
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একেবারে প্রান্তের কট্টর রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে বেন-গভিরের আবির্ভাবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে মারণাস্ত্র ব্যবহার, গ্রেপ্তার অভিযান এবং অন্যান্য সহিংসতা বাড়তে পারে।
দখল ও উত্তেজনার কেন্দ্রে​ হেবরন : হেবরন শহর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রস্থল। এখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সুরক্ষায় কয়েক শ ইসরায়েলির জন্য বসতি তৈরি করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে শুরু করে সব কিছুই সুরক্ষিত। অথচ তাদের চারপাশে থাকা হাজারো ফিলিস্তিনির সেসব অধিকার নেই। নির্বাচনের সময় বেন-গভির এবং আরেক ডানপন্থী বেজালেল স্মরত্রিচের নেতৃত্বাধীন জোট এখানে ব্যাপক প্রচার চালায়। বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে তাদের বিপুল সমর্থন রয়েছে।

স্মরত্রিচ নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। হেবরনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা আবু মারখিয়া বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এ অঞ্চলে আক্রমণ ও সহিংসতা বেড়েছে।  
ইসরায়েলের বিগত সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ নির্বাচনের সময়ই সতর্ক করে বলেছিলেন, বেন-গভির দেশে আগুন জ্বালাবেন।  
আরো শক্তি বৃদ্ধি : হেবরনে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বামপন্থী কর্মীরা কয়েক দিন আগে এক সমাবেশ করেন। ওই সময় তাঁরা সেনাদের মারধরের শিকার হন। ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলি বামপন্থীদের বিরুদ্ধে দখলদার ইহুদিরা সেখানে সমাবেশ করে শক্তির মহড়া দিচ্ছে।

নিজেকে হেবরনে বসতি স্থাপনকারীদের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র দাবি করা ইশাই ফ্লেইশার এক সমাবেশে বসতি স্থাপনের বিরোধীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের (বসতি স্থাপনের বিরোধী) এই মতামত ইসরায়েলে সম্পূর্ণ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। এই শহরে জিহাদিবাদ রয়েছে। হামাস (ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী) এই শহর শাসন করে এবং সেটাই সত্যিকারের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বর্ণবাদী শাসন। এই শাসন এখানেও আসবে যদি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তা বন্ধে তত্পর না হয়। ’ 
ইশাই ফ্লেইশার দাবি করেন, হেবরন অঞ্চল ইহুদি জাতির আদি বসতভূমি।  

স্থানীয় অনেক ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বলেছেন, বেন-গভিরের বিজয়ের পর তাঁরা আগের চেয়ে নিজেদের অনেক শক্তিশালী মনে করছেন। তাঁদের কণ্ঠস্বরের শক্তি এখন বেড়েছে। সূত্র : বিবিসি

 


-Kalerkantho