ইউক্রেন আমাদের শর্ত মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে : ক্রেমলিন

প্রকাশ:  ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:৩৯

ইউক্রেনের সাবেক চার প্রদেশ দনেতস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়াকে রুশ ভূখণ্ড বলে স্বীকৃতি দেওয়া, ক্রিমিয়া উপদ্বীপ থেকে নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ যেসব শর্ত কিয়েভকে দিয়েছে মস্কো— ইউক্রেনের সরকার সেসব মেনে নিলেই দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি ও মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার সেখানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

পেসকভ বলেন, ‘যত দ্রুত ইউক্রেনের সরকার আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে— তত দ্রুত এসব কিছু (যুদ্ধ) শেষ হবে…এবং ইউক্রেনের জনগণও এই ট্র্যাজেডি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে তাদের জীবন শুরু করতে পারবে। আমরা সেটাই চাই।’

‘এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইউক্রেনের কারণে। সে দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ভর করছে।’

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও ১০টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন; কিন্তু সেই প্রস্তাবের প্রথম শর্তই হলো- ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর দখল করা সব অঞ্চল ফের দেশটিকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং রুশ সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সাবেক সোভিয়েত অঙ্গরাজ্য ইউক্রেন। তারপর থেকেই জাতিগত সংঘাত শুরু হয় দেশটিতে।

সংঘাতের মূল কারণ, ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ সরাসরি রুশ বংশোদ্ভূত এবং রুশভাষী। সোভিয়েত আমলে রুশ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইউক্রেনীয় জনগোষ্ঠীর মোটামুটি সদ্ভাব বজায় থাকলেও ইউক্রেন স্বাধীন হওয়ার পর দ্বন্দ্ব শুরু হয় এ দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

ইউক্রেনের রুশভাষী লোকজন বরাবরই নিজেদেরকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ইউক্রেনীয়রা সবসময় নিজেদের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র জাতি মনে করতে অভ্যস্ত। মূলত এটিই দুই জনগোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের মূল কারণ এবং এই দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট সংঘাতে ১৯৯১ সালের পর গত ৩০ বছরে ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। দেশটির রুশভাষী জনগোষ্ঠী এক্ষেত্রে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও সরকারকে সরাসরি সহায়তা করেছিল।

এদিকে, রুশভাষীদের মোকাবিলা করতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই রাশিয়ার প্রধান বৈরীপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনৈতিক বলয়ে ঢুকতে দেন-দরবার শুরু করেছিল ইউক্রেন। রাশিয়ার কাছে ক্রিমিয়া হারানোর পর এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের এই আবেদনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে মস্কো। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিতে কিয়েভকে আহ্বানও জানানো হয়, কিন্তু কিয়েভ তাতে কর্ণপাত করেনি।

প্রায় চার বছর এই ইস্যুতে ‍দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলার পর অবশেষে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন ভ্লাদিমির পুতিন।

বর্তমানে সেই অভিযান গড়িয়েছে প্রায় এক বছরে। এই এক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন— উভয়পক্ষে নিহত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ, ইউক্রেনের চারটি প্রদেশকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করেছে রাশিয়া এবং এই যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।

কিন্তু কবে নাগাদ এই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে— সে সম্পর্কিত কোনো প্রকার পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।