Thursday , 21 October 2021
বসন্ত প্রাণে প্রাণে দোলা দেয়

বসন্ত প্রাণে প্রাণে দোলা দেয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: মাঘের শেষ, শীতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়ে আজকের ভোরের সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে ফাগুণের আগমনী গান জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের। ইট কাঠের জঞ্জালে ভরা ধুলো ময়লার নগরে আটপৌরে বাসন্তি শাড়ির সাথে মাথায় হাতে তৈরি ফুলের মুকুট, অঙ্গে জড়ানো গাদা ফুলের মালা কিংবা নীল সাদা পাঞ্জাবী পরে অলিগলি ঘুরাতে; ব্যস্ত শহরে রিকশায় কিংবা পার্কে বসে বসন্তের আসল ছোয়া স্পর্শ করা যায় না অভিযোগকে পাশ কাটিয়ে সবাই মেতে ওঠেন বসন্তোল্লাসে। কারণটা এমনি এমনি নয়। বসন্তের রয়েছে সেই মাদকতা।রোমান্স ভর করে প্রত্যেকেরই।গাছে গাছে সুশোভিত ফুল, ফাগুনের রক্ত রাঙা সবুজ পত্র কাননের মাঝে ঝিরি ঝিরি বসন্ত বাতাসের হিমেল হাওয়ায় ঢেউ খেলে যায়, ধান ক্ষেতে দিয়ে যায় দোল। সেই দোলের হাওয়ায় নেচে ওঠে মানুষের মনও। গাছে গাছে পত্র-পল্লবের আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাকে ব্যাকুল হয় অনেক বিরোহী অন্তর। প্রেম জাগায় মনে। এমন নজির খুব কমই হাজির করতে পারবেন বিরস লোকটিও। বসন্ত প্রাণে প্রাণে দোলা দেয়। সে এক নীরব নিবিড় দোলা, সে যার প্রাণ আছে সেই বোঝে। বসন্তকে তাই রোমান্টিক না বলার উপায় আছে?

বিদ্রোহ ছেড়ে কাজী নজরুল ইসলাম বসন্তের বন্দনায় মেতেছেন। প্রতিবাদ ভুলে কবি সুকান্ত জানতে চেয়েছেন, ‘বসন্তেরই হাওয়া,তোমার নবীন প্রাণে প্রাণে,কে সে আলোর জোয়ার আনে?’ হেমন্ত প্রেমী কবি জীবনানন্দ দাশের কাছে বসন্ত এক ভিন্ন রূপ বলেই হয়তো তিনি কবিতায় বসন্তকে এনেছেন অনেকটা নীরবে-নিভৃতে, তবুও তিনি বসন্তের টান উপেক্ষা করতে পারেননি। আধুনিক কবি,উত্তরাধুনিক কবিদের কবিতায়ও বসন্ত বন্দনা লক্ষ করা যায়। হেলাল হাফিজ,নির্মলেন্দু গুণ,সুফিয়া কামাল,ফররুখ আহমদ সবাই বসন্তের দোলায় মেতেছেন।