চর্চা আর অভ্যাস সম্পর্কে জানবো

চর্চা আর অভ্যাস সম্পর্কে জানবো

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রতিটি মানুষের ভেতরেই কোনো না কোনো সৃষ্টিশীলতা, সৃজনশীলতা থাকে। হয়তো মানুষ নিজেও অনেক সময়ে বুঝতে পারেনা যে তার মধ্যে ঠিক কি গুণ আছে। শরীরকে ঠিক রাখতে যেমন খাদ্যাভাস, ব্যায়ামের দরকার হয়, তেমনি সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতেও কিছু অভ্যাস কিছু চর্চার প্রয়োজন হয়। আমরা আজ সেই চর্চা আর অভ্যাস সম্পর্কে জানবো।নাচের অভ্যাস রাখুন-নাচকে মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার অংশ বলে মনে করা হয়। এবং সেটা আজ থেকে ৮ হাজার বছর ধরে। নাচ দিয়ে জীবনকে উপভোগ করা সম্ভব। এর মাধ্যমেই জীবন থেকে পাওয়া সব উপহারগুলো সম্পর্কে আমাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়। আমাদের সবার ভেতরেই কমবেশি সৃজনশীলতা লুকিয়ে থাকে, সেগুলো আত্মোপলব্ধি করার অন্যতম পন্থা হলো নাচ। নাচের মুদ্রার মাধ্যমে সেই শরীরী ভাষা বেরিয়ে আসে, প্রকাশ পায়।  * গান করুন-মনের ভেতরের ভাষা শব্দ আর আওয়াজ দিয়ে বের করে আনে গান। বাল্যকাল থেকেই আমরা আশেপাশের পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রভাবিত। এখানে নিজস্ব অভিমত প্রকাশের সুযোগ খুব কম। সেক্ষেত্রে জীবনে যোগাযোগের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অনেককিছু। অন্যদের সঙ্গে কীভাবে, কতোটা মেলামেশা করছি তাঁর ওপরেই নির্ভর করে আমাদের জীবনপ্রণালী। নিজেকে, নিজের চাওয়া পাওয়াকে, মনের কথাগুলোকে ভালোভাবে প্রকাশ করার জন্য এমন একটা আওয়াজ বা কণ্ঠস্বর থাকা দরকার যা সবার কাছে আমাদের পৌঁছে দেবে। *গান শুনতে হবে-শুধু গান করলেই হবেনা। এর পাশাপাশি গান শুনতেও হবে। গান আমাদের ভেতরের অনুভুতিকে নাড়া দিতে পারে। গানের সঙ্গে আমাদের জীবনের প্রতিটি অনুসঙ্গকে উপলব্ধি করা যায়। বাস্তব দুনিয়ার ঝুটঝামেলা থেকে অন্য এক জগতে নিয়ে যেতে পারে গান।  *নিঃশ্বাস নিন লম্বা করে-আমাদের বেঁচে থাকা মানে নিঃশ্বাসও বেঁচে আছে। তাই যত গভীর নিঃশ্বাস নেবেন, জীবনকে আরও বেশি করে বুঝতে পারবেন। এজন্য একটি পদ্ধতি মেনে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট সময় ধরে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনুন। এতে করে মনে শান্তি আসতে বাধ্য। এতে করে নিজেকে বোঝার পাশাপাশি চারপাশটাকেও বুঝতে পারা যায়। কোনো বাধা আপনার সফলতাকে বাধা দিচ্ছে কি না তা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়। *চলে যান প্রকুতির কাছে-প্রকৃতির মাধ্যমেই এই দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের এই মেলবন্ধন। এজন্য অবশ্যই প্রকৃতি আমাদের কাছে অনেক বেশি আপন। আরা প্রত্যেকে তাঁর খুব একটা অল্প অংশ। কিন্তু দুনিয়াটা তো খুব ছোট না। দুনিয়ার সব সৌন্দর্য্য বুঝতে হলে অবশ্যই প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে হবে। তাতে করে সবকিছুকে নতুনভাবে প্রত্যক্ষ করা যাবে। *ছবি আঁকুন-ছবি আঁকা মানেও হলো নিজের মনের ভারকে চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। আমাদের মনের ভেতরে, মাথার মধ্যে যতকিছু থাকে তা একটা ছবি এঁকে বুঝিয়ে দেওয়া যায়। আবার অনেক সময়ে এমন অনেক এমন সব ধারণা বেরিয়ে আসে যা আগে কখনো ছিলনা। এজন্য সবসময় ছবি আঁকার জন্য প্রস্তুত থাকুন। সঙ্গে রাখুন নোটবুক, পেন্সিল, খাতা। যে পরিবেশেই মন চাইবে, এঁকে ফেলুন যা ইচ্ছে তাই। নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটান। *নিজের ভেতরের শৈশববোধকে জাগিয়ে তুলুন-শিশুদের কল্পনার জগতে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। তাদের নিজের একটা সুন্দর জগত আছে, সেখানে সবই বর্তমান। তারা নেতিবাচক কিছু ভাবতে পারেনা কখনো, কল্পনাতেও তাদের কোনো ভয় নেই।  * আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি করুন-চেষ্টা করতে হবে সর্বদা আনন্দে থাকতে। আমাদের জীবনে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হলো আনন্দের কিছু খুঁজে না পাওয়া। আনন্দের উৎস আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে থাকে, কিন্তু আমরা তা খুঁজে না পেয়ে কাজে লাগাতে পারিনা। * নিজের সহজাত দোষ-গুণের প্রতি আস্থাশীল থাকুন-আপনার সহজাত যে দোষ-গুণই থাকুক না কেন, তার প্রতি যত্নশীল হোন। দোষগুলোকে পাশ কাটিয়ে গুণগুলোকে অবশ্যই প্রাধান্য দিন। নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখুন। তাহলেই বেচে থাকা স্বার্থক। *হাসিখুশি থাকুন-হাসলে শরীর মন দুটোই ভালো থাকে- এটা সবাই জানে। হাসি মানসিক শক্তি দেয়, চাপ আর অবসাদ থেকে দূরে রাখে। তাই কঠিন কোনো অসুখ হলেও চিকিৎসকেরা হাসতে উৎসাহিত করেন। ঘড়ি ধরে সময় মেনে তো হাসা সম্ভব না, কিন্তু সবসময় হাসার চেষ্টা তো করাই যায়।